০১:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজউকের ফাতেমা বেগম মলি ও জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৪

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)–এর কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম মলি ও জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট, নির্মাণাধীন ভবনে অংশীদারিত্ব, রিসোর্টে বিনিয়োগ এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও জমি থাকার বিষয়ও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম সবুজের রাজধানীর সবুজবাগে অ্যাপার্টমেন্ট, দক্ষিণ মাদারটেকে নির্মাণাধীন একটি ভবনে অংশীদারিত্ব এবং গাজীপুরের একটি রিসোর্টে বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও তাঁর বাড়ি ও জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য ও অর্থের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অবৈধ সম্পদ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।

অভিযোগের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ঠিকাদার মেহেদী হাসান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, ঝিগাতলার ফ্ল্যাট ও পূর্বাচলের প্লটসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর ও ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও এসব অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি।

লেখায় আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শাহআলী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ফাতেমা বেগম মলি ও তাঁর স্বামীর নাম এজাহারে রয়েছে। এ কারণে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত না করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে কোনো মামলায় আসামি হওয়া অপরাধ প্রমাণ করে না; বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, রাজউকে সততার সঙ্গে চাকরি করছেন এবং দাপ্তরিক কোনো কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে ঘুষ নেননি।

জাহিদুল ইসলাম সবুজের ভাষ্য, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে হেয় করা এবং চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংস্থায় ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।

অন্যদিকে, ফাতেমা বেগম মলির বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে চাকরিবিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরকারি নথি ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদারি কাজ, ভূমি ও প্লটসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, সম্পদের উৎস, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

চতুর্থ দিনের গণসংযোগে ছোট আঁচড়ায় ইমদাদ, শুনলেন নাগরিক দুর্ভোগের কথা

রাজউকের ফাতেমা বেগম মলি ও জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

আপডেট: ১০:০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)–এর কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম মলি ও জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে অ্যাপার্টমেন্ট, নির্মাণাধীন ভবনে অংশীদারিত্ব, রিসোর্টে বিনিয়োগ এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও জমি থাকার বিষয়ও রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জাহিদুল ইসলাম সবুজের রাজধানীর সবুজবাগে অ্যাপার্টমেন্ট, দক্ষিণ মাদারটেকে নির্মাণাধীন একটি ভবনে অংশীদারিত্ব এবং গাজীপুরের একটি রিসোর্টে বিনিয়োগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকাতেও তাঁর বাড়ি ও জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এসব সম্পদের প্রকৃত মালিকানা, মূল্য ও অর্থের উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অবৈধ সম্পদ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।

অভিযোগের নথি অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর ঠিকাদার মেহেদী হাসান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন, ঝিগাতলার ফ্ল্যাট ও পূর্বাচলের প্লটসহ বিভিন্ন বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

এ ছাড়া ২০২২ সালের ২৮ অক্টোবর ও ২০২৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাহিদুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় পার হলেও এসব অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি।

লেখায় আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি শাহআলী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় ফাতেমা বেগম মলি ও তাঁর স্বামীর নাম এজাহারে রয়েছে। এ কারণে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত না করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তবে কোনো মামলায় আসামি হওয়া অপরাধ প্রমাণ করে না; বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিষয়গুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

অভিযোগের বিষয়ে জাহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি দাবি করেন, রাজউকে সততার সঙ্গে চাকরি করছেন এবং দাপ্তরিক কোনো কাজের বিনিময়ে কারও কাছ থেকে ঘুষ নেননি।

জাহিদুল ইসলাম সবুজের ভাষ্য, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাঁকে হেয় করা এবং চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সংস্থায় ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে।

অন্যদিকে, ফাতেমা বেগম মলির বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে চাকরিবিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে সরকারি নথি ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদারি কাজ, ভূমি ও প্লটসংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট নথি, সম্পদের উৎস, দরপত্র প্রক্রিয়া এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।