যশোরের চৌগাছার আলোচিত ব্যারিস্টার এ কে এম মোর্তজা রাসেলের বিরুদ্ধে আবারও পৈতৃক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলেছেন তার আপন বোন স্নেহলতা পারভিন বিউটি। তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটানোর পর এখন স্থানীয় বিএনপি নেতাদের নাম ব্যবহার করে তাদের পারিবারিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।
রোববার যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে স্নেহলতা পারভিন বিউটি অভিযোগ করেন, চৌগাছা থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালামের সহযোগিতার কথা বলে ব্যারিস্টার মোর্তজা রাসেল স্থানীয় ২০ থেকে ২৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রায় ২২ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন। অথচ এ-সংক্রান্ত একাধিক মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি জানান, তাদের বাবা মরহুম হায়দার আলীর মাকাপুর গ্রামের প্রায় ৪০ বিঘা সম্পত্তি আইন অনুযায়ী ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। কিন্তু তার ভাই আল-ইমরানের প্রাপ্য অংশের জমিও বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৮ জুন কৃষিজমি এবং ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ বসতভিটার অধিকাংশ জমি দখল করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্নেহলতা পারভিন।
তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির বড় একটি অংশ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন ব্যারিস্টার মোর্তজা রাসেল। এর আগেও একই অভিযোগে পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। সে সময় ব্যারিস্টার মোর্তজা রাসেল চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হাবীবকে সঙ্গে নিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে স্নেহলতা পারভিন অভিযোগ করেন, বর্তমানে অবশিষ্ট সম্পত্তিও দখলের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এবং যশোর জেলা বিএনপির সভাপতির কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে আল-ইমরান, তামান্না নাজনিন, বাচ্চু মিয়া, লিয়াকত, খিদির, মুন্তাহা ও মোইদুলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে লন্ডনপ্রবাসী ব্যারিস্টার এ কে এম মোর্তজা রাসেলের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চৌগাছা থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তার নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ব্যারিস্টার মোর্তজা রাসেল অতীতে আওয়ামী লীগের নেতাদের ছত্রছায়ায় চলাফেরা করতেন এবং তার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



















