০৭:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শার্শার গর্ব ‘তীর্থ’: শিক্ষা, মানবতা ও নেতৃত্বে দেড় যুগের আলোকিত পথচলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:৫২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • ৫০৮

বেনাপোল প্রতিনিধি | আলমগীর হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শার্শা উপজেলার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে ওঠা সংগঠন “তীর্থ” আজ যশোর জেলার অন্যতম সেরা ছাত্রকল্যাণ সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিক্ষা, মানবিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ সংগঠনটি দেড় যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

জানা যায়, ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় শার্শা উপজেলার কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাত ধরে “তীর্থ”-এর যাত্রা শুরু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল শার্শা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক শিক্ষার্থী সমাজ গড়ে তোলা।

সময়ের পরিক্রমায় “তীর্থ” শুধু একটি ছাত্রসংগঠনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি শার্শার শিক্ষার্থীদের কাছে এক আস্থার নাম হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথে একে অপরের পাশে থাকার প্রত্যয়ে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যচর্চা, শিক্ষা সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান, রক্তদান কর্মসূচি, মানবিক সহায়তা, জাতীয় ও সামাজিক দিবস পালন এবং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক গঠন।

বিশেষ করে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় “তীর্থ” মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মহামারির ভয়াবহ সময়ে সংগঠনটি শার্শা উপজেলার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে “তীর্থ একাডেমিক কেয়ার” নামে ভর্তি প্রস্তুতিমূলক কোচিং কার্যক্রম চালু করা হয়, যা শার্শার শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তির সুযোগ পাওয়া দুইজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ভর্তি ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেয় “তীর্থ”। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ সংগঠনটির প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, শার্শা ও যশোর অঞ্চল থেকে আগত অসুস্থ রোগীদের রক্তদান, হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও সংগঠনটির সদস্যরা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।

“ঐক্য, মানবতা ও শিক্ষাই আগামীর আলোকিত সমাজ নির্মাণের ভিত্তি”— এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই এগিয়ে চলছে “তীর্থ”। সেই ধারাবাহিকতায় উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে সংগঠনটির ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সোয়ায়েব হোসেন সজীব এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ফারহান সাদিক প্লাবন। উপদেষ্টা পরিষদ আশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, নবগঠিত এই কমিটি শিক্ষা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে “তীর্থ”-কে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল সংগঠন হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

সর্বাধিক পঠিত

যশোর সীমান্তে বিজিবির সফল অভিযান : মাদক ও কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শার্শার গর্ব ‘তীর্থ’: শিক্ষা, মানবতা ও নেতৃত্বে দেড় যুগের আলোকিত পথচলা

আপডেট: ০৬:৫২:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

বেনাপোল প্রতিনিধি | আলমগীর হোসেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শার্শা উপজেলার শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে গড়ে ওঠা সংগঠন “তীর্থ” আজ যশোর জেলার অন্যতম সেরা ছাত্রকল্যাণ সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। শিক্ষা, মানবিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ সংগঠনটি দেড় যুগ ধরে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।

জানা যায়, ২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় শার্শা উপজেলার কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাত ধরে “তীর্থ”-এর যাত্রা শুরু হয়। মূল লক্ষ্য ছিল শার্শা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা প্রদান, শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চায় উদ্বুদ্ধ করা, মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক শিক্ষার্থী সমাজ গড়ে তোলা।

সময়ের পরিক্রমায় “তীর্থ” শুধু একটি ছাত্রসংগঠনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং এটি শার্শার শিক্ষার্থীদের কাছে এক আস্থার নাম হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার পথে একে অপরের পাশে থাকার প্রত্যয়ে সংগঠনটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সংগঠনটির উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যচর্চা, শিক্ষা সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান, রক্তদান কর্মসূচি, মানবিক সহায়তা, জাতীয় ও সামাজিক দিবস পালন এবং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও নেটওয়ার্ক গঠন।

বিশেষ করে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময় “তীর্থ” মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মহামারির ভয়াবহ সময়ে সংগঠনটি শার্শা উপজেলার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সেমিনারের আয়োজন করে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ করে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে “তীর্থ একাডেমিক কেয়ার” নামে ভর্তি প্রস্তুতিমূলক কোচিং কার্যক্রম চালু করা হয়, যা শার্শার শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এছাড়া ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তির সুযোগ পাওয়া দুইজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ভর্তি ব্যয় বহনের দায়িত্ব নেয় “তীর্থ”। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক উদ্যোগ সংগঠনটির প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই নয়, শার্শা ও যশোর অঞ্চল থেকে আগত অসুস্থ রোগীদের রক্তদান, হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও সংগঠনটির সদস্যরা সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন।

“ঐক্য, মানবতা ও শিক্ষাই আগামীর আলোকিত সমাজ নির্মাণের ভিত্তি”— এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করেই এগিয়ে চলছে “তীর্থ”। সেই ধারাবাহিকতায় উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে সংগঠনটির ২০২৬-২৭ সেশনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সোয়ায়েব হোসেন সজীব এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ফারহান সাদিক প্লাবন। উপদেষ্টা পরিষদ আশা প্রকাশ করে জানিয়েছে, নবগঠিত এই কমিটি শিক্ষা, মানবিকতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়ে “তীর্থ”-কে আরও সমৃদ্ধ ও গতিশীল সংগঠন হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাবে।