যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষারত দুই মেধাবী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যু এবং অন্তর্ধানের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মার্কিন নাগরিক হিশাম আবুঘরবেহকে নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টিকে হত্যার পর খণ্ডিত দেহাংশ নদীতে ফেলে দেওয়ার জোরালো আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের ১০ দিন পর গত ২৪ এপ্রিল টাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজে লিমনের মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সাবেক এফবিআই এজেন্ট ও ইউএসএফ সেন্টার ফর জাস্টিস রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির সহ-পরিচালক **ডা. ব্রায়ানা ফক্স** এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানান:
এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চেয়ে বরং ‘তাৎক্ষণিক রাগের বিস্ফোরণ’ হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিরোধ, ঈর্ষা বা সামান্য ঝগড়া থেকে এমন সংঘাতের সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। লিমনের অ্যাপার্টমেন্টে বৃষ্টির রক্তের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ায় তদন্তকারীরা প্রায় নিশ্চিত যে, বৃষ্টিকেও একইভাবে হত্যা করে প্রমাণ লোপাট করতে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
হিলসবরো কাউন্টি আদালতে দাখিল করা নথিতে আবুঘরবেহর বিরুদ্ধে **প্রথম-ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার** দুটি অভিযোগসহ মৃতদেহ গোপন, প্রমাণ নষ্ট এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটররা আবেদন করেছেন:
*নিরাপত্তা ঝুঁকি:** অভিযুক্ত অত্যন্ত নির্মম ও সহিংস। তাকে মুক্তি দিলে সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।
*কারাগারে আটক:** বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো শর্ত ছাড়াই তাকে কারাগারে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
নিহত জামিল আহমেদ লিমন ইউএসএফ-এ ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন এবং নাহিদা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা দুজন একে অপরের পরিচিত ছিলেন এবং পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের দিনও ধার্য হয়েছিল। এমন মেধাবী দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশের স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম চলছে।
শনিবার সকালে আবুঘরবেহকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) তার প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। সেই শুনানি পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে।




















