০৬:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৮০ লাখ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে তিনি শার্শার উলাশী এলাকায় বেতনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা এতদিন যশোর জেনারেল হাসপাতালে যাতায়াত করে ক্লিনিক্যাল শিক্ষা গ্রহণ করে আসছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি ফেরে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের তথ্য অনুযায়ী, **৬৭৬ কোটি টাকা** ব্যয়ে বিশাল এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় যা যা থাকছে:
১০ তলাবিশিষ্ট** ৫০০ শয্যার মূল হাসপাতাল ভবন।
শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল।
নার্সিং কলেজ ও নার্সিং হোস্টেল।
*স্টাফ নার্স ডরমেটরি এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
৫০০ আসনবিশিষ্ট** অত্যাধুনিক মিলনায়তন ও মসজিদ।
নিজস্ব বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় এতদিন তাদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। বিশেষ করে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাতের বেলা যাতায়াতে অনেক ঝুঁকি ও কষ্ট পোহাতে হতো। নিজস্ব হাসপাতাল চালু হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলার বিশাল জনগোষ্ঠী আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা হাতের নাগালে পাবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে **২০২৮ সালের জুনের** মধ্যে সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করে হাসপাতালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বাস্তবায়িত হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের ওপর বাড়তি রোগীর চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে সুশিক্ষার সুযোগ পাবে। সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপ দক্ষিণবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যায়।

সর্বাধিক পঠিত

তাওহীদ হৃদয়ের ঝড়ে ইতিহাস গড়ে জিতল বাংলাদেশ

যশোরে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট: ০৫:৩০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৮০ লাখ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার দুপুর ২টার দিকে তিনি প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে তিনি শার্শার উলাশী এলাকায় বেতনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার যশোরে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন দেয় এবং শহরের দক্ষিণে হরিণার বিলে ৭৫ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে হাসপাতাল নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হলেও শিক্ষার্থীরা এতদিন যশোর জেনারেল হাসপাতালে যাতায়াত করে ক্লিনিক্যাল শিক্ষা গ্রহণ করে আসছিলেন, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। দীর্ঘ আন্দোলনের পর ২০২৩ সালের ২৯ আগস্ট একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০২৫ সালে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পে গতি ফেরে।

গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের তথ্য অনুযায়ী, **৬৭৬ কোটি টাকা** ব্যয়ে বিশাল এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের আওতায় যা যা থাকছে:
১০ তলাবিশিষ্ট** ৫০০ শয্যার মূল হাসপাতাল ভবন।
শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের জন্য পৃথক হোস্টেল।
নার্সিং কলেজ ও নার্সিং হোস্টেল।
*স্টাফ নার্স ডরমেটরি এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা।
৫০০ আসনবিশিষ্ট** অত্যাধুনিক মিলনায়তন ও মসজিদ।
নিজস্ব বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র।

মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় এতদিন তাদের ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হতো। বিশেষ করে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাতের বেলা যাতায়াতে অনেক ঝুঁকি ও কষ্ট পোহাতে হতো। নিজস্ব হাসপাতাল চালু হলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইল জেলার বিশাল জনগোষ্ঠী আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা হাতের নাগালে পাবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে **২০২৮ সালের জুনের** মধ্যে সম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করে হাসপাতালটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।

যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি শুধু একটি ভবন নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি বাস্তবায়িত হলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের ওপর বাড়তি রোগীর চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে সুশিক্ষার সুযোগ পাবে। সরকারের এই ত্বরিত পদক্ষেপ দক্ষিণবঙ্গের স্বাস্থ্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যায়।