পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘দেশব্যাপী জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যশোরের শার্শায় ঐতিহাসিক **উলশী খাল** পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় শার্শা উপজেলার উলশী-যদুনাথপুর এলাকায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১৯৭৬ সালে তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে স্থানে নিজে কোদাল হাতে নিয়ে খাল খনন বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন, ঠিক সেই স্থানেই আজ প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের সূচনা করলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ:*শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি:** পানিসম্পদ মন্ত্রী।ফরহাদ হোসেন আজাদ:** পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী।*অনিন্দ্য ইসলাম অমিত:** বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।মীর শাহে আলম:** স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
এছাড়া পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনকালে সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দেশের হারিয়ে যাওয়া বা ভরাট হওয়া নদী-নালা, খাল ও জলাধারগুলো উদ্ধার করে সেগুলোর নব্যতা ফিরিয়ে আনা। ‘জলবায়ু সহনশীলতা’ জোরদারে এই উদ্যোগ একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। উলশী খালটি পুনরায় সচল হলে অত্র অঞ্চলের কয়েক হাজার একর জমির জলাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি সেচ সুবিধার মাধ্যমে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আসবে।সকাল থেকেই শার্শার উলশী ও পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা এলাকার হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেন। ৫০ বছর আগে শহীদ জিয়ার সেই ঐতিহাসিক স্বেচ্ছাশ্রমের কথা স্মরণ করে স্থানীয় প্রবীণরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা মনে করছেন, এই খাল পুনঃখননের মাধ্যমে শুধু পানি নিষ্কাশনই হবে না, বরং এলাকার অর্থনীতি ও জীববৈচিত্র্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধীনে খালের গভীরতা ও নব্যতা বাড়িয়ে পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে এই পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সুধী সমাবেশে অংশ নেন এবং দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।




















