যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের রেল যোগাযোগ সংক্রান্ত দাবি বাস্তবায়নে সরাসরি উদ্যোগ নিতে রেলপথ মন্ত্রীর কাছে ডিও লেটার (আধা-সরকারি চিঠি) পাঠিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পাঠানো ওই চিঠিতে তিনি যশোরের কৌশলগত ও প্রশাসনিক গুরুত্ব তুলে ধরে দ্রুত রেল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে যশোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। এখানে রয়েছে বিমানবন্দর, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন, দেশের অন্যতম প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল, অর্থনৈতিক কেন্দ্র নওয়াপাড়া এবং ফুলচাষের জন্য বিখ্যাত গদখালি।
এত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে রেল যোগাযোগে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
চিঠিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তৎকালীন পরিকল্পনায় যশোর সদরকে মূল রেল নেটওয়ার্ক থেকে বাইরে রাখা হয়। এতে শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে ট্রেন ধরার ব্যবস্থা করতে হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
বর্তমানে বেনাপোল রুটে একটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করলেও সময়সূচি ও সুবিধার ঘাটতির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
যশোরবাসীর পক্ষ থেকে চিঠিতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়—
বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল হয়ে ঢাকা রুটে ভোরবেলার একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা এবং দর্শনা রুটেও একই ধরনের ট্রেন সংযোজন
. ঢাকা-নড়াইল-যশোর রুটে অন্তত একটি লোকাল ট্রেন চালু দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডাবল লাইন রেলপথ নির্মাণ যশোরে একটি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (ICD) স্থাপন
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল, নওয়াপাড়া, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও দর্শনা এলাকার বিপুল সংখ্যক যাত্রী রেলসেবার আওতায় আসবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার অবসান ঘটিয়ে রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতি পাবে।




















