১১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

৭ই মার্চ: বাঙালির মুক্তির কালজয়ী সনদ ও স্বাধীনতার মহাকাব্য

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪০

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ছিল বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসের এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ। নির্বাচনের নিরঙ্কুশ জয়ের পরও যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে, তখন সারা দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সেই উত্তাল সময়ে ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হয়ে উঠেছিল সারা বাংলার মানুষের শেষ আশার স্থল। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রের গর্জন আর গগণবিদারী স্লোগানে সেদিন ঢাকার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল।
সেই ঐতিহাসিক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ১৮ মিনিটের এক অমর কাব্যিক ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র বীরের জাতিতে রূপান্তরিত করেন। তাঁর ভাষণের প্রতিটি শব্দ ছিল এক একটি বুলেটের মতো শক্তিশালী। তিনি যখন ঘোষণা করলেন—
> “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
>
তখনই মূলত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ভাগ্য। তিনি জনগণকে যার যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, এটি ছিল একটি পরাধীন জাতির স্বাধীনতার রূপরেখা।
বিশ্ব দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি
বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের গুরুত্ব আজ শুধু বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি ।
* ইউনেস্কোর স্বীকৃতি: ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (World Documentary Heritage) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
* মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড: এটি বর্তমানে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত।
* প্রেরণার উৎস: বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত এবং মুক্তিকামী মানুষের জন্য এই ভাষণটি চিরকাল এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকে থাকবে।
স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত ধাপ
৭ই মার্চের পর থেকে এ দেশের শাসনভার মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই চলতে শুরু করে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ ছেড়ে যখন দমন-পীড়নের পথ বেছে নিল, তখন বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের পরম আরাধ্য স্বাধীনতা।

৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়, বরং এটি প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেমের এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা। ইতিহাসের পাতায় এই ভাষণটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত

আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট বন্ধ, বাংলাদেশে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা

৭ই মার্চ: বাঙালির মুক্তির কালজয়ী সনদ ও স্বাধীনতার মহাকাব্য

আপডেট: ১২:১২:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ছিল বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসের এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ। নির্বাচনের নিরঙ্কুশ জয়ের পরও যখন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে, তখন সারা দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সেই উত্তাল সময়ে ঢাকার রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) হয়ে উঠেছিল সারা বাংলার মানুষের শেষ আশার স্থল। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রের গর্জন আর গগণবিদারী স্লোগানে সেদিন ঢাকার আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়ে উঠেছিল।
সেই ঐতিহাসিক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ১৮ মিনিটের এক অমর কাব্যিক ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র বীরের জাতিতে রূপান্তরিত করেন। তাঁর ভাষণের প্রতিটি শব্দ ছিল এক একটি বুলেটের মতো শক্তিশালী। তিনি যখন ঘোষণা করলেন—
> “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”
>
তখনই মূলত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ভাগ্য। তিনি জনগণকে যার যা কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার এবং ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, এটি ছিল একটি পরাধীন জাতির স্বাধীনতার রূপরেখা।
বিশ্ব দরবারে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি
বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের গুরুত্ব আজ শুধু বাংলাদেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। এটি ।
* ইউনেস্কোর স্বীকৃতি: ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (World Documentary Heritage) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
* মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড: এটি বর্তমানে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত।
* প্রেরণার উৎস: বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত এবং মুক্তিকামী মানুষের জন্য এই ভাষণটি চিরকাল এক অনন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে টিকে থাকবে।
স্বাধীনতার পথে চূড়ান্ত ধাপ
৭ই মার্চের পর থেকে এ দেশের শাসনভার মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই চলতে শুরু করে। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ ছেড়ে যখন দমন-পীড়নের পথ বেছে নিল, তখন বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় আমাদের পরম আরাধ্য স্বাধীনতা।

৭ই মার্চের ভাষণ বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক দলিল নয়, বরং এটি প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে দেশপ্রেমের এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা। ইতিহাসের পাতায় এই ভাষণটি বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি হিসেবে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।