যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার ও আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো:
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র! ফুরিয়ে আসছে প্যাট্রিয়টের মজুত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৬ মার্চ, ২০২৬ ইরানের পক্ষ থেকে আসা সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে বহুমূল্য প্যাট্রিয়ট মিসাইল এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের সীমিত মজুত নিয়ে মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও পেন্টাগনের অভ্যন্তরে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্যাট্রিয়ট মিসাইল: চাহিদা আকাশচুম্বী, উৎপাদন সীমিত
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মার্ক ক্যানশিয়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জেডিএএম (JDAM) বোমা থাকলেও আধুনিক আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ তুলনামূলক কম। প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা এখন বিশ্বজুড়ে—পেন্টাগন ছাড়াও এর বড় দাবিদার আরব মিত্র দেশগুলো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন।
মজুত ও উৎপাদন পরিস্থিতি:
: প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ কোটি টাকা)।
যুক্তরাষ্ট্র বছরে মাত্র ৭০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে।
: ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে মাত্র ১৬০০টি প্যাট্রিয়ট মিসাইল রয়েছে, যা সাম্প্রতিক উত্তেজনায় দ্রুত কমে আসছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে প্রভাবের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ইরান যদি দীর্ঘমেয়াদী ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়ে যেতে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সীমিত মজুদে টান পড়বে। মার্ক ক্যানশিয়ান বলেন, “আমরা হয়তো ইরানকে পরাস্ত করতে পারব, কিন্তু তাতে আমাদের মজুত এতই কমে যাবে যে পরবর্তীতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (যেমন চীন ইস্যু) কোনো বড় সংঘাত শুরু হলে আমরা ভয়াবহ সংকটে পড়ব।”
অস্ত্র নির্মাতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক
অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহের শেষদিকে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছেন, “ইরান আমাদের মজুত শেষ করিয়ে দিতে পারবে না।”
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিমান থেকে ভূমিতে হামলা চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বেশি থাকলেও, আকাশ থেকে আগত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার লড়াইটি অনেক বেশি ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত। ইরানের বিপুল সংখ্যক সস্তা ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের দামী প্যাট্রিয়ট মিসাইলগুলোর মজুত শেষ করে দেওয়ার কৌশল মার্কিন প্রতিরক্ষা কৌশলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





















