১০:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাল ভোট দিলে ৭ বছরের জেল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৬:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১০

গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। তবে এই অধিকারের অপব্যবহার বা জালিয়াতি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আগামীকালকের নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাল ভোট বা যেকোনো নির্বাচনী অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
জাল ভোট আসলে কী?
সহজ কথায়, যেখানে প্রকৃত ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে না, সেটিই জাল ভোট। এর মধ্যে রয়েছে:
* প্রকৃত ভোটারের নাম ব্যবহার করে অন্য কারো ভোট দেওয়া।
* ভোটার অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়া।
* ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা।
* একজন ব্যক্তির একাধিকবার ভোট প্রদান।
আইন ও কঠোর শাস্তির বিধান
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনে জাল ভোটকে একটি গুরুতর এবং অ-জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২ অনুযায়ী শাস্তির বিধানগুলো নিম্নরূপ:
* সর্বোচ্চ কারাদণ্ড: নির্বাচনী জালিয়াতির জন্য অপরাধ ভেদে সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
* অনধিকার প্রবেশ: ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের দায়ে ৬ মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
* তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা: ভোটের মাঠে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা প্রদানের ক্ষমতা রাখেন।
যেসব কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ধারা অনুযায়ী নিচের কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ:
১. যোগ্য না হয়েও বা অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা।
২. একই কেন্দ্রে বা ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করা।
৩. ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার বাইরে নিয়ে আসা বা সরিয়ে ফেলা।
৪. সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্ররোচিত করে কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ।
৫. জালিয়াতির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়া।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনতাই বা জাল ভোটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হবে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে জাল ভোট বা অনিয়ম দেখলে দ্রুত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অথবা দায়িত্বরত পুলিশ ও র‍্যাবকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

জাল ভোট দিলে ৭ বছরের জেল

আপডেট: ০৬:০৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণতন্ত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। তবে এই অধিকারের অপব্যবহার বা জালিয়াতি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আগামীকালকের নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জাল ভোট বা যেকোনো নির্বাচনী অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
জাল ভোট আসলে কী?
সহজ কথায়, যেখানে প্রকৃত ভোটারের স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে না, সেটিই জাল ভোট। এর মধ্যে রয়েছে:
* প্রকৃত ভোটারের নাম ব্যবহার করে অন্য কারো ভোট দেওয়া।
* ভোটার অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়া।
* ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা।
* একজন ব্যক্তির একাধিকবার ভোট প্রদান।
আইন ও কঠোর শাস্তির বিধান
বাংলাদেশের নির্বাচনী আইনে জাল ভোটকে একটি গুরুতর এবং অ-জামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO), ১৯৭২ অনুযায়ী শাস্তির বিধানগুলো নিম্নরূপ:
* সর্বোচ্চ কারাদণ্ড: নির্বাচনী জালিয়াতির জন্য অপরাধ ভেদে সর্বোচ্চ ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
* অনধিকার প্রবেশ: ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের দায়ে ৬ মাসের জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে।
* তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা: ভোটের মাঠে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটগণ অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে সাজা প্রদানের ক্ষমতা রাখেন।
যেসব কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ধারা অনুযায়ী নিচের কাজগুলো শাস্তিযোগ্য অপরাধ:
১. যোগ্য না হয়েও বা অযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়ার চেষ্টা করা।
২. একই কেন্দ্রে বা ভিন্ন ভিন্ন কেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করা।
৩. ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার বাইরে নিয়ে আসা বা সরিয়ে ফেলা।
৪. সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্ররোচিত করে কোনো প্রার্থীর পক্ষে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ।
৫. জালিয়াতির উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়া।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনতাই বা জাল ভোটের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হবে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে সাধারণ ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে জাল ভোট বা অনিয়ম দেখলে দ্রুত প্রিজাইডিং কর্মকর্তা অথবা দায়িত্বরত পুলিশ ও র‍্যাবকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।