বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণার বর্তমান পরিবেশকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একইসঙ্গে ২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধা অব্যাহত রাখতে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) নিয়ে আলোচনা শুরুর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনে ইইউ পর্যবেক্ষক
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আলোচনার সময় তিনি বলেন:
“ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী আস্থার প্রতীক। নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।”
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সম্প্রতি জাপানের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) করার ফলে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য সেখানে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করেন যে, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পোশাক খাতসহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের বাজার নিশ্চিত করতে এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে।
ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বৈঠকে জানান, ভারত ও ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে ইইউ-এর সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য এখনই এফটিএ আলোচনা শুরু করা জরুরি। ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনতে তারা আগ্রহী এবং এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ‘ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম’ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষ শ্রমশক্তি ও কম উৎপাদন খরচের কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। সরকার এ লক্ষ্যে বিশেষ মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















