০১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষায় চরম অনিশ্চয়তা: দাবি না মানলে সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের হুমকি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬২৪

তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতির জেরে সারা দেশের সাড়ে ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, রোববার রাতের মধ্যে দাবি পূরণের সিদ্ধান্ত না এলে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের এই অনমনীয় অবস্থানে ১ কোটি ৯ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গত ১২ নভেম্বরের মধ্যে ১১তম গ্রেড দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক হতাশ।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হেঁটেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, “আমরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছি। রোববারের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না এলে পরীক্ষা বর্জন ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।”
আরেক সহকারী শিক্ষক সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা আমাদের মর্যাদার লড়াই, এখানে কোনো আপস নেই। আমরা অপেক্ষা করলাম, দেখলাম; কিন্তু আর নয় আলাপন, এবার চাই প্রজ্ঞাপন। প্রজ্ঞাপন দিলেই আমরা দ্বিগুণ উৎসাহে বন্ধের সময়ও পরীক্ষা নেব।”
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন পেলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। এই বৈষম্য দূরীকরণসহ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা তাদের তিনটি মূল দাবি জানিয়ে আসছেন:
১. বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা
এর আগে গত ৮–১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছিলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষকরা আবার আন্দোলনে ফিরেছেন।
সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরীক্ষা বর্জন না করার আহ্বান জানালেও, দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা তাঁদের আন্দোলনে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় ব্যবসায়ীর ২ বছরের কারাদণ্ড

প্রাথমিক শিক্ষায় চরম অনিশ্চয়তা: দাবি না মানলে সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের হুমকি

আপডেট: ০২:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতির জেরে সারা দেশের সাড়ে ৬৫ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, রোববার রাতের মধ্যে দাবি পূরণের সিদ্ধান্ত না এলে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
শিক্ষকদের এই অনমনীয় অবস্থানে ১ কোটি ৯ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে গত ১২ নভেম্বরের মধ্যে ১১তম গ্রেড দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না থাকায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষক হতাশ।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হেঁটেছেন।
প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মু. মাহবুবর রহমান বলেন, “আমরা লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছি। রোববারের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ না এলে পরীক্ষা বর্জন ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই।”
আরেক সহকারী শিক্ষক সাইদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটা আমাদের মর্যাদার লড়াই, এখানে কোনো আপস নেই। আমরা অপেক্ষা করলাম, দেখলাম; কিন্তু আর নয় আলাপন, এবার চাই প্রজ্ঞাপন। প্রজ্ঞাপন দিলেই আমরা দ্বিগুণ উৎসাহে বন্ধের সময়ও পরীক্ষা নেব।”
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতন পেলেও সহকারী শিক্ষকরা এখনো ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। এই বৈষম্য দূরীকরণসহ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা তাদের তিনটি মূল দাবি জানিয়ে আসছেন:
১. বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ
২. ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান
৩. শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি নিশ্চিত করা
এর আগে গত ৮–১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হয়েছিলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে কর্মবিরতি স্থগিত হলেও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিক্ষকরা আবার আন্দোলনে ফিরেছেন।
সর্বশেষ গত ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে পরীক্ষা বর্জন না করার আহ্বান জানালেও, দাবি পূরণের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা তাঁদের আন্দোলনে অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।