০৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে: যশোরে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় তিনি দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হওয়া এই জনসভা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ঈদগাহ ময়দান। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে যশোরের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি বলেন, “যশোরসহ সারাদেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিই, তা বাস্তবায়ন করি।”
তিনি ঘোষণা করেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” কৃষকদের সহায়তায় কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষি কার্ড এবং এলপিজি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নারীর ক্ষমতায়নে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনা এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির আশ্বাস দেন।
আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং খেলাধুলায় নতুন প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।জনসভায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন:
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি:** জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল:** গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত:** নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের কথা জানান।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও এমপি আজীজুর রহমান:** স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং যশোরের চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
জনসভা চলাকালীন পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং জনসভাকে কেন্দ্র করে যশোর ও সংলগ্ন জেলাগুলোর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো জনমনে আশার সঞ্চার করেছে।

সর্বাধিক পঠিত

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে: যশোরে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি

কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে: যশোরে বিশাল জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি

আপডেট: ০৭:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জেলা শাখার উদ্যোগে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় তিনি দেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন।বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে শুরু হওয়া এই জনসভা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আয়োজকদের দাবি অনুযায়ী, লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল ঈদগাহ ময়দান। জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে যশোরের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন। তিনি বলেন, “যশোরসহ সারাদেশের উন্নয়নে বিএনপি সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিই, তা বাস্তবায়ন করি।”
তিনি ঘোষণা করেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” কৃষকদের সহায়তায় কৃষিঋণ মওকুফ, কৃষি কার্ড এবং এলপিজি কার্ড চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে চালু হওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
নারীর ক্ষমতায়নে স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি প্রদানের পরিকল্পনা এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির আশ্বাস দেন।
আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের মহাপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু এবং খেলাধুলায় নতুন প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগের কথা জানান তিনি।জনসভায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা নিজ নিজ দপ্তরের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন:
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি:** জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করার কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন বকুল:** গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত:** নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের কথা জানান।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও এমপি আজীজুর রহমান:** স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং যশোরের চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।
জনসভা চলাকালীন পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর এবং জনসভাকে কেন্দ্র করে যশোর ও সংলগ্ন জেলাগুলোর সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো জনমনে আশার সঞ্চার করেছে।