মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। এবার ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, ইরান বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিষিদ্ধ ‘ক্লাস্টার বোমা’ ব্যবহার করছে। শুক্রবার এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে আইডিএফ মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।
আইডিএফ মুখপাত্র নাদাভ শোশানি জানান, ইরান ইসরায়েলের সামরিক ও বেসামরিক এলাকায় একাধিকবার ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ করেছে। তিনি বলেন, “বেসামরিক এলাকায় এই বোমার ব্যবহার আন্তর্জাতিক আইনে নিষিদ্ধ এবং এটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। আমরা পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।”
তেহরানে ভয়াবহ রাত ও ক্রমবর্ধমান হতাহত
এদিকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ইরানে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী:
* হামলার শুরু থেকে ইরানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জনে।
* তেহরানের প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
* স্থানীয় বাসিন্দারা গত রাতকে যুদ্ধের ‘সবচেয়ে ভয়াবহ রাত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
* প্রতি কয়েক ঘণ্টা অন্তর তেহরানে হামলা চালানো হচ্ছে বলে বিবিসি পার্সিয়ানকে জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
আইআরজিসি ২৩তম দফা পাল্টা হামলার ঘোষণা দিলেও ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে তা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সমরবিদদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।
‘
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইরানের বিষয়ে তাঁর কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনার একমাত্র পূর্বশর্ত হলো ‘আত্মসমর্পণ’। ট্রাম্পের ভাষায়, “ইরান গণতান্ত্রিক হলো কি না তা নিয়ে আমি চিন্তিত নই। আমি এমন নেতৃত্ব চাই যারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা ও আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য
সংঘাতের এই জরুরি মুহূর্তে ইসরায়েলে বড় ধরনের অস্ত্র পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছেন, আগামী ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে তাদের মূল লক্ষ্য অর্জিত হবে এবং ইরানের আকাশসীমা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।





















