ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে তিনি বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদকে ১১ হাজার ৮৭৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
এক নজরে চূড়ান্ত ফলাফল
উপজেলার সবগুলো কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা:
| অধ্যাপক মোক্তার আলী | দাঁড়িপাল্লা | ৯১,০৩৭ |
| আবুল হোসেন আজাদ | ধানের শীষ | ৭৯,১৫৯ |
বিজয়ের ব্যবধান: ১১,৮৭৮ ভোট।
সকাল থেকেই কেশবপুরের কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় এক দশক পর সব দলের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
‘
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় অধ্যাপক মোক্তার আলী মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
> “এই বিজয় আমার ব্যক্তিগত নয়; এটি কেশবপুরের সাধারণ মানুষের ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বিজয়। ভোটাররা যে পবিত্র আমানত আমার হাতে তুলে দিয়েছেন, আমি আমার মেধা ও শ্রম দিয়ে তার মর্যাদা রক্ষা করব।”
>
তিনি আরও জানান, তার প্রথম কাজ হবে কেশবপুরের দীর্ঘদিনের অভিশাপ ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘স্মার্ট ও মানবিক কেশবপুর’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন এই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য।
আনন্দ মিছিল ও উৎসব
ফলাফল ঘোষণার পরপরই কেশবপুর পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে আনন্দ মিছিল বের করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। সমর্থকদের মাঝে মিষ্টি বিতরণের ধুম পড়ে যায়। কেশবপুর বাজারের মোড়ে মোড়ে সাধারণ মানুষকে উল্লাস করতে দেখা গেছে।
যশোর-৬ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের এই সরাসরি লড়াইকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ হিসেবে দেখছিলেন। কেন্দ্র পর্যায়ে দুই দল মিত্র হিসেবে পরিচিত হলেও, তৃণমূলের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ শিক্ষক ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক মোক্তার আলীর ওপরই আস্থা রাখলেন কেশবপুরবাসী।
যশোরের অন্যান্য আসনের সবশেষ ফলাফল ও নির্বাচনী বিশ্লেষণ জানতে আমাদের সাথেই থাকুন।




















