০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অসুস্থতায় ঝরে গেছে ২ বছর, এখন ফরম পূরণে বাধা: বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ছাত্রীর মায়ের সংবাদ সম্মেলন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর | মরণব্যাধি আর ভুল চিকিৎসার কবলে পড়ে জীবন থেকে হারিয়ে গেছে মূল্যবান দুটি বছর। সেই ধকল কাটিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসানা জেরিন যখন নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইল, তখনই তার পথে বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যশোরের নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা তামান্না ইসলাম
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তামান্না ইসলাম জানান, ২০২২ সালে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় চিকিৎসকের ভুলে আফসানার খাদ্যনালী কেটে যায়। দীর্ঘ সময় হাসপাতালের বিছানায় কাটাতে হওয়ায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সে অংশ নিতে পারেনি। চরম শারীরিক ও আর্থিক সংকটের পর সুস্থ হয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে সে পুনরায় স্কুলে ফেরে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক’ আচরণের অভিযোগ
তামান্না ইসলামের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধান শিক্ষিকার অনুমতি নিয়েই আফসানাকে স্কুলে নিয়মিত করা হয় এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত যাবতীয় ফি পরিশোধ করা হয়। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক আচরণ শুরু করে। পরীক্ষায় কয়েক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার অজুহাতে তাকে এসএসসির ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

* অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা না করে শিক্ষকরা ছাত্রীর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছেন।
* ব্যক্তিগত ক্ষোভ এবং শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে খাতা পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
* মেয়ের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসে ফেল করার ‘ভিত্তিহীন’ অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।

২০২৬ সালে আফসানার রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এবার পরীক্ষা দিতে না পারলে তার শিক্ষাজীবন চিরতরে থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা তামান্না ইসলাম বলেন,
> “আমি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু একটি সুযোগ চেয়েছি। আমার মেয়ে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, তাকে একটু সময় দিলে সে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু তারা সহযোগিতা না করে উল্টো অপমান করছে।”
এ বিষয়ে নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া শিরিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আফসানা প্রায় সব বিষয়েই ফেল করেছে। কোনো কোনো বিষয়ে সে মাত্র ৫ বা ৭ নম্বর পেয়েছে। নিয়মানুযায়ী সব শিক্ষার্থীকে নোটিশ দিয়ে খাতা দেখানো হয়েছে। তিনি ছাত্রীর মায়ের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
তবে একটি অসুস্থ মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।

সর্বাধিক পঠিত

এক দিনেই দুই দফা ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশ:

অসুস্থতায় ঝরে গেছে ২ বছর, এখন ফরম পূরণে বাধা: বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ছাত্রীর মায়ের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট: ০৪:৫৭:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর | মরণব্যাধি আর ভুল চিকিৎসার কবলে পড়ে জীবন থেকে হারিয়ে গেছে মূল্যবান দুটি বছর। সেই ধকল কাটিয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসানা জেরিন যখন নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে ঘুরে দাঁড়াতে চাইল, তখনই তার পথে বাধার পাহাড় হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যশোরের নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের বিরুদ্ধে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা তামান্না ইসলাম
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তামান্না ইসলাম জানান, ২০২২ সালে পিত্তথলির পাথর অপারেশনের সময় চিকিৎসকের ভুলে আফসানার খাদ্যনালী কেটে যায়। দীর্ঘ সময় হাসপাতালের বিছানায় কাটাতে হওয়ায় ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় সে অংশ নিতে পারেনি। চরম শারীরিক ও আর্থিক সংকটের পর সুস্থ হয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে সে পুনরায় স্কুলে ফেরে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘অমানবিক’ আচরণের অভিযোগ
তামান্না ইসলামের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রধান শিক্ষিকার অনুমতি নিয়েই আফসানাকে স্কুলে নিয়মিত করা হয় এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত যাবতীয় ফি পরিশোধ করা হয়। কিন্তু টেস্ট পরীক্ষার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ রহস্যজনক আচরণ শুরু করে। পরীক্ষায় কয়েক বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার অজুহাতে তাকে এসএসসির ফরম পূরণ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

* অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা না করে শিক্ষকরা ছাত্রীর সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করছেন।
* ব্যক্তিগত ক্ষোভ এবং শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট না পড়ার কারণে খাতা পুনর্মূল্যায়নের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
* মেয়ের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব ক্লাসে ফেল করার ‘ভিত্তিহীন’ অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।

২০২৬ সালে আফসানার রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এবার পরীক্ষা দিতে না পারলে তার শিক্ষাজীবন চিরতরে থমকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা তামান্না ইসলাম বলেন,
> “আমি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে শুধু একটি সুযোগ চেয়েছি। আমার মেয়ে দীর্ঘ সময় পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল, তাকে একটু সময় দিলে সে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু তারা সহযোগিতা না করে উল্টো অপমান করছে।”
এ বিষয়ে নিউ টাউন গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুরাইয়া শিরিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আফসানা প্রায় সব বিষয়েই ফেল করেছে। কোনো কোনো বিষয়ে সে মাত্র ৫ বা ৭ নম্বর পেয়েছে। নিয়মানুযায়ী সব শিক্ষার্থীকে নোটিশ দিয়ে খাতা দেখানো হয়েছে। তিনি ছাত্রীর মায়ের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।
তবে একটি অসুস্থ মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।