ফেসবুকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রশিবির নেতাকে শোকজ করেছে হল প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রশিবিরের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি এআই-সম্পাদিত বিভ্রান্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারকে নিয়ে আপত্তিকর উপস্থাপনার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরপরই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। তবে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ দাবি করেন, তিনি ওই পোস্ট করেননি এবং তার নামে ছড়ানো স্ক্রিনশটটি ভুয়া ও বিকৃত।
এ বিষয়ে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান Rumor Scanner-এর অনুসন্ধানেও বলা হয়েছে, ছড়ানো স্ক্রিনশটটি সম্পাদিত এবং বিভ্রান্তিকর।
ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির আহ্বায়ক হলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, সদস্য সচিব জাওয়াদ ইবনে ফরিদ এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খান।
কমিটি ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সব ধরনের দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সবাইকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।




















