১২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোটগ্রহণ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৪৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৮

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৪ আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের হার দাঁড়ায় প্রায় ৮৯.৮৩ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের নির্বাচনে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। নির্বাচন শেষে এই হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম দফায় রাজ্যের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫২ আসনের মধ্যে অন্তত অর্ধেক আসনে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। বিশেষ নজর ছিল নন্দীগ্রাম আসনের দিকে, যেখানে দুই প্রভাবশালী প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি লড়াই হয়েছে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৃণমূলের হয়ে ভোট দেন সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব, কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নূরসহ একাধিক প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখের বেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল মুর্শিদাবাদ জেলায়
তবে ভোটগ্রহণ চলাকালে মুর্শিদাবাদ, মালদা, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও বীরভূমে কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হলেও বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি।

ভোটের দিন রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করায় হিটস্ট্রোকে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও মালদা জেলায় এসব ঘটনা ঘটে। মৃতদের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল, যেখানে বাকি ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দ্বিতীয় দফার ভোটে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক করতে পারে।
ভোটের উচ্চ হার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য দেখা গেছে। বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, এই ভোট হার তাদের পক্ষে জনসমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী দাবি করেন, ফলাফল বোঝা যাবে ৪ মে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জনগণকে বিশ্বাস করা উচিত এবং ভোটের আগে কোনো ধরনের দাবি করা অনুচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের উচ্চ হার এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে ক্ষমতার ভারসাম্য।

সর্বাধিক পঠিত

দীর্ঘ ছয় বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে যশোর ইনস্টিটিউটের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন

৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ভোট, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় রেকর্ড ৯০ শতাংশের বেশি ভোটগ্রহণ

আপডেট: ১০:৪৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট ৫০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২৯৪ আসনের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রগুলোর বাইরে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যায়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভোটদানের হার দাঁড়ায় প্রায় ৮৯.৮৩ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের নির্বাচনে সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। নির্বাচন শেষে এই হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম দফায় রাজ্যের উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের ১৬টি জেলার আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছে। প্রার্থীদের মধ্যে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৫২ আসনের মধ্যে অন্তত অর্ধেক আসনে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। বিশেষ নজর ছিল নন্দীগ্রাম আসনের দিকে, যেখানে দুই প্রভাবশালী প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি লড়াই হয়েছে।
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে তৃণমূলের হয়ে ভোট দেন সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব, কংগ্রেস প্রার্থী মৌসম বেনজির নূরসহ একাধিক প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মিলিয়ে প্রায় ৫ লাখের বেশি কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল মুর্শিদাবাদ জেলায়
তবে ভোটগ্রহণ চলাকালে মুর্শিদাবাদ, মালদা, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর ও বীরভূমে কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হলেও বড় ধরনের সহিংসতা হয়নি।

ভোটের দিন রাজ্যে তীব্র তাপপ্রবাহ বিরাজ করায় হিটস্ট্রোকে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও মালদা জেলায় এসব ঘটনা ঘটে। মৃতদের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।
দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ এপ্রিল, যেখানে বাকি ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হবে। ভোটের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দ্বিতীয় দফার ভোটে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক করতে পারে।
ভোটের উচ্চ হার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য দেখা গেছে। বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, এই ভোট হার তাদের পক্ষে জনসমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী দাবি করেন, ফলাফল বোঝা যাবে ৪ মে।
তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, জনগণকে বিশ্বাস করা উচিত এবং ভোটের আগে কোনো ধরনের দাবি করা অনুচিত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের উচ্চ হার এবং তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তবে চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে ক্ষমতার ভারসাম্য।