০১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

কেশবপুরে ছাত্র আন্দোলনে হামলা: সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলামসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলা, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের জখম এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যশোরের কেশবপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল ইসলামসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল উজ্জামান সম্প্রতি আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেশবপুর শাখার সমন্বয়ক মিরাজুল ইসলাম দায়ের করা মামলায় এই চার্জশিট দেওয়া হয়।
চার্জশিটভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলাম, কবির হোসেন ওরফে জিএম কবির, টিপু সুলতান, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৌরভ হোসেন ওরফে ফেরদৌস কবীর সৌরভ, মেহেদী হাসান, শ্রীকান্ত দাস, তানজিম, মো. তরিকুল ইসলাম, ইস্কান্দার ইসলাম ওরফে পারভেজ, তরিকুল ইসলাম দপ্তরী, আফরাজুর রহমান তুষার, নাহমাহদুল আশিক, পারভেজ মোশারেফ, প্রান্ত সাহা, সুজন দাস, মারুফ হোসেন, তুহিন রেজা, শাহীন আলম, জাহাঙ্গীর ফকির, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, মহিবুল হাসান, আইয়ুব হোসেন মিলন, শেখ আলাল, হাবিবুর রহমান, শাহাদাৎ হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম, জামাল হোসেন শেখ, রবিউল ইসলাম রবি, সুজন হোসেন, মাসুম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান জিকু, রফিকুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ, সাগর পাল, দেলোয়ার হোসেন রকি, রাকিবুল ইসলাম জিসান, মুত্তাসিম বিল্লাহ, শাহিন রেজা লিখন, মহিবুর রশিদ, রুস্তম আলী খান, আব্দুর রহিম, গোলাম রসুল, গৌতম রায়, হাবিবুর রহমান খান মুকুল, মেহেরাব হোসেন স্বাধীন, শফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির টিনু, মফিজুর রহমান, হোসেন আলী, রবিউল ইসলাম, খালিদ হাসান ও বিএম শহীদুজ্জামান বিশ্বাস।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেশবপুর কলেজ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলামের নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার সমর্থক ও সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, ছুরি এবং চাইনিজ কুড়াল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালায়। এতে কেশবপুর শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মিরাজুল ইসলামসহ আব্দুল হালিম অটল, সাহেদ আলী, মাছুম, মিরাজ এবং পলাশ গুরুতর আহত হন।
আহতদের প্রথমে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর মিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকালে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ৩৫ জনকে শনাক্ত করে। তবে এজাহারভুক্ত আসামি জামির হোসেন ওরফে শেখ জামিরুল ইসলাম তদন্ত চলাকালীন মারা যাওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত জীবিত ১৯ জন এবং নতুনভাবে শনাক্ত ৩৫ জনসহ মোট ৫৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

দীর্ঘ ছয় বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে যশোর ইনস্টিটিউটের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন

কেশবপুরে ছাত্র আন্দোলনে হামলা: সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলামসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট: ০৯:৫৫:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলা, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের জখম এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যশোরের কেশবপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার আজিজুল ইসলামসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হেলাল উজ্জামান সম্প্রতি আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেশবপুর শাখার সমন্বয়ক মিরাজুল ইসলাম দায়ের করা মামলায় এই চার্জশিট দেওয়া হয়।
চার্জশিটভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলাম, কবির হোসেন ওরফে জিএম কবির, টিপু সুলতান, খন্দকার শরিফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সৌরভ হোসেন ওরফে ফেরদৌস কবীর সৌরভ, মেহেদী হাসান, শ্রীকান্ত দাস, তানজিম, মো. তরিকুল ইসলাম, ইস্কান্দার ইসলাম ওরফে পারভেজ, তরিকুল ইসলাম দপ্তরী, আফরাজুর রহমান তুষার, নাহমাহদুল আশিক, পারভেজ মোশারেফ, প্রান্ত সাহা, সুজন দাস, মারুফ হোসেন, তুহিন রেজা, শাহীন আলম, জাহাঙ্গীর ফকির, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, মহিবুল হাসান, আইয়ুব হোসেন মিলন, শেখ আলাল, হাবিবুর রহমান, শাহাদাৎ হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম, জামাল হোসেন শেখ, রবিউল ইসলাম রবি, সুজন হোসেন, মাসুম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান জিকু, রফিকুল ইসলাম, হারুন অর রশিদ, সাগর পাল, দেলোয়ার হোসেন রকি, রাকিবুল ইসলাম জিসান, মুত্তাসিম বিল্লাহ, শাহিন রেজা লিখন, মহিবুর রশিদ, রুস্তম আলী খান, আব্দুর রহিম, গোলাম রসুল, গৌতম রায়, হাবিবুর রহমান খান মুকুল, মেহেরাব হোসেন স্বাধীন, শফিকুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির টিনু, মফিজুর রহমান, হোসেন আলী, রবিউল ইসলাম, খালিদ হাসান ও বিএম শহীদুজ্জামান বিশ্বাস।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেশবপুর কলেজ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলামের নির্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার সমর্থক ও সহযোগীরা শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র, ছুরি এবং চাইনিজ কুড়াল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস আক্রমণ চালায়। এতে কেশবপুর শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মিরাজুল ইসলামসহ আব্দুল হালিম অটল, সাহেদ আলী, মাছুম, মিরাজ এবং পলাশ গুরুতর আহত হন।
আহতদের প্রথমে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার পর মিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকালে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও ৩৫ জনকে শনাক্ত করে। তবে এজাহারভুক্ত আসামি জামির হোসেন ওরফে শেখ জামিরুল ইসলাম তদন্ত চলাকালীন মারা যাওয়ায় তাকে চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে এজাহারভুক্ত জীবিত ১৯ জন এবং নতুনভাবে শনাক্ত ৩৫ জনসহ মোট ৫৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

মামলাটি এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।