ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিসটেনসেন আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আজ বেলা ১১টার দিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান। কর্মসূচির শুরুতেই তিনি পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সাথে বৈঠক করেন। সচিবের সাথে আলোচনা শেষে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেনের দপ্তরে যান এবং সেখানে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করেন। এটি দায়িত্ব গ্রহণের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কূটনৈতিক মহলের ধারণা অনুযায়ী, বৈঠকে মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে:
নির্বাচন ও নিরাপত্তা: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনি পরিবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রদূত স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন।
* দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্য ও ট্যারিফ: দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং ট্যারিফ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু আলোচনায় স্থান পেয়েছে।
* রোহিঙ্গা ইস্যু: রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান অবস্থা এবং মানবিক সহায়তার বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেন গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্রিফিং না দিলেও মার্কিন দূতাবাসের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে জানানো হয়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে তার বৈঠকটি অত্যন্ত ‘চমৎকার ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে। তিনি বর্তমান সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গভীর অংশীদারিত্ব ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে ব্রেন্ট ক্রিসটেনসেন আনুষ্ঠানিকভাবে তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।




















