সাতক্ষীরা ভোররাতে যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই এক মৃদু কম্পনে কেঁপে উঠল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে অনুভূত এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.১।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলা এলাকায়। এর ভৌগোলিক অবস্থান ছিল ২২.৮৪ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
ইএমএসসি-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলটি সাতক্ষীরা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং ভারতের হাওড়া শহর থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।
ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব ছিল কয়েক সেকেন্ড। সাতক্ষীরা ছাড়াও খুলনা, যশোর এবং পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকা থেকে কম্পন অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে উৎপত্তিস্থল অনেক গভীরে হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা ছিল ‘মৃদু’ শ্রেণির। ফলে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলটি ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে মাঝে মাঝেই কম মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়।
গত কয়েক দিনে এটি বাংলাদেশে অনুভূত হওয়া তৃতীয় ভূমিকম্প। এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ৩ মাত্রার এবং ২৫ জানুয়ারি ৩.৪ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ঘনঘন এই মৃদু কম্পন কোনো বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রশাসন ও আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং আতঙ্কিত না হয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে।





















