যশোরের চৌগাছা উপজেলার কাঁচাবাজারে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, বর্তমানে নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে কাঁচাবাজারের বহু দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বিবেচনায় মসজিদটি বিকল্প স্থানে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. শফি উদ্দিন। তিনি বলেন, মডেল মসজিদের জন্য প্রথমে নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন করে পার্বনিক লাইব্রেরির পেছনে একই মালিকানাধীন অন্য একটি দাগে মসজিদ নির্মাণ করা হলে বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা পাবে। এতে প্রায় ১২০টি দোকান আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচবে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালত তিন মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ২০১৪ সালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ এলেও ব্যবসায়িক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় এখন পর্যন্ত সেখানে নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে হাজারো ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। তারা আরও দাবি করেন, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি পক্ষ রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এছাড়া বাজারের কিছু দোকান নির্মাণের নামে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী নেতারা। তারা এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা স্থানীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষার স্বার্থে মডেল মসজিদের স্থান পরিবর্তন করে বিকল্প নির্ধারিত স্থানে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ক্ষতিগ্রস্ত হাট মালিক সমিতির সভাপতি আতিউর রহমান লেন্টু, আবু মুসা, মোহাম্মদ আলী, আনিসুর রহমান, মোহাম্মদ বিল্লাল, শেখ মোহাম্মদ তুহিন, সাইফুল্লাহসহ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও দোকান মালিকরা।










