যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ২০০ পিস ইয়াবাসহ আবু বক্কর সিদ্দিকী নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে পৌর এলাকার ব্রাকপাড়া থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ইয়াবার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আটক আবু বক্কর সিদ্দিকী মাগুরার শালিখা এলাকার আলোচিত কথিত ‘জেরিন সিন্ডিকেট’-এর একজন সদস্য। তার আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত জেরিন সুলতানার নাম আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
জানা যায়, এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জেরিন সুলতানার বিরুদ্ধে কথিত ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এখনো তাকে আইনের আওতায় আনা না হওয়ায় এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অতি দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা জেরিন সুলতানা কয়েক বছর আগেও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। পরবর্তীতে একটি চক্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পর তার জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। অভিযোগ রয়েছে, ওই চক্রের মাধ্যমে তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে একটি বড় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, যশোর ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন জেরিন। সম্প্রতি ২০ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালানকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের গরমিল নিয়ে একটি কথিত অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, যশোর সদর ও চৌগাছার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে বড় বড় ইয়াবার চালান পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নারীদের ব্যবহার করে একটি কথিত ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রও পরিচালনা করতেন জেরিন। ওই চক্রের মাধ্যমে একাধিক যুবককে ফাঁদে ফেলার অভিযোগও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
এদিকে, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি কথিত অডিও রেকর্ডে ২০ হাজার পিস ইয়াবার চালান, অর্থ লেনদেনের গরমিল, অস্ত্র সরবরাহ এবং একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তলের বিনিময়ে ইয়াবা গ্রহণ সংক্রান্ত কথোপকথন রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এসব অডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জেরিন সুলতানার প্রাক্তন স্বামী মহিনুর ইসলাম দাবি করেন, বিয়ের পর জেরিন সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তীতে চৌগাছার কয়েকজন কথিত মাদক কারবারির সংস্পর্শে এসে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। তিনি জানান, স্ত্রীকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেরিন সুলতানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রসিদ বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”










