০৫:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

শার্শায় মাদ্রাসাছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, সুপারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:৩০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৮

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ প্রাপ্তির পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সামটা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে একই প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী লোকলজ্জা ও সামাজিক সংকোচের কারণে বিষয়টি প্রথমে পরিবারের সদস্যদের জানাতে পারেননি। পরবর্তীতে অভিযুক্তের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি পরিবারের কাছে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার হুমকি, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার ভয় দেখানো এবং মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতো। যার ফলে ছাত্রী ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন রাতে অভিযুক্ত সুপার অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ছাত্রীর হাত চেপে ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এছাড়া গত ২৯ জুন অভিযুক্ত সুপার অভিযোগকারীর হাতে একটি কাগজ তুলে দিয়ে তার মেয়েকে প্রতিষ্ঠান থেকে টিসি (স্থানান্তর সনদ) প্রদান করে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এরপর থেকেই ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিমুল হক বলেন,

“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা পর্যন্ত অভিযুক্ত সুপার মমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় মাদ্রাসাছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, সুপারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

শার্শায় মাদ্রাসাছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, সুপারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

আপডেট: ০৫:৩০:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার একটি মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ প্রাপ্তির পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সামটা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে একই প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ভুক্তভোগী ছাত্রী লোকলজ্জা ও সামাজিক সংকোচের কারণে বিষয়টি প্রথমে পরিবারের সদস্যদের জানাতে পারেননি। পরবর্তীতে অভিযুক্তের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে তিনি পরিবারের কাছে পুরো ঘটনাটি প্রকাশ করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তের প্রস্তাবে সাড়া না দিলে ওই ছাত্রীকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার হুমকি, বিভিন্নভাবে ক্ষতি করার ভয় দেখানো এবং মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হতো। যার ফলে ছাত্রী ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১৮ জুন রাতে অভিযুক্ত সুপার অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং একপর্যায়ে ছাত্রীর হাত চেপে ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

এছাড়া গত ২৯ জুন অভিযুক্ত সুপার অভিযোগকারীর হাতে একটি কাগজ তুলে দিয়ে তার মেয়েকে প্রতিষ্ঠান থেকে টিসি (স্থানান্তর সনদ) প্রদান করে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এরপর থেকেই ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থীকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিমুল হক বলেন,

“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা পর্যন্ত অভিযুক্ত সুপার মমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি এবং তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।