০৬:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: বাধ্যতামূলক হলো ‘বাংলা কিউআর’, এক কোডেই সব ব্যাংক ও এমএফএসে লেনদেন

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে দেশের আর্থিক লেনদেনকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতির পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দেশের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হয়েছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR)

নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংক কিংবা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) অ্যাপ থেকে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এতে গ্রাহকদের আর বিভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএসের আলাদা আলাদা কিউআর কোড খুঁজতে হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ফলে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা কমানো, লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যবসায়ীকে এখন শুধু একটি ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার করলেই চলবে। সেই কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ অথবা বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মুহূর্তেই বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রতি এক হাজার টাকায় সর্বোচ্চ সাড়ে ১১ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা প্রচলিত অনেক ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য।

ব্যাংকারদের মতে, সর্বজনীন এই কিউআর ব্যবস্থা চালুর ফলে আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত হবে। এতে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি কমবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, বর্তমানে কাগুজে নোট ছাপানো, পরিবহন, নিরাপত্তা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বাবদ রাষ্ট্রকে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে এ বিপুল ব্যয়ের বড় একটি অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, “শুধু বড় শপিংমল বা সুপারশপ নয়, সবাই এগিয়ে এলে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি বিক্রেতা ও মুদি দোকানেও বাংলা কিউআর পৌঁছে যাবে। এতে নগদ অর্থের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং একসময় মানিব্যাগ কিংবা ছেঁড়া-ফাটা কাগুজে নোটের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই অতীত হয়ে যেতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনের এই নতুন ব্যবস্থা শুধু নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে না, বরং একটি স্মার্ট, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও যদি ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত করা যায়, তবে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাত আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করছেন।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শায় মাদ্রাসাছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও হুমকির অভিযোগ, সুপারের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ

ক্যাশলেস অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ: বাধ্যতামূলক হলো ‘বাংলা কিউআর’, এক কোডেই সব ব্যাংক ও এমএফএসে লেনদেন

আপডেট: ০৪:৪১:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে দেশের আর্থিক লেনদেনকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও স্বচ্ছ করতে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতির পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে দেশের সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হয়েছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR)

নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন থেকে একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংক কিংবা মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) অ্যাপ থেকে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করা যাবে। এতে গ্রাহকদের আর বিভিন্ন ব্যাংক বা এমএফএসের আলাদা আলাদা কিউআর কোড খুঁজতে হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘বাংলা কিউআর’ চালুর ফলে ডিজিটাল লেনদেন আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতারণা কমানো, লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যবসায়ীকে এখন শুধু একটি ‘বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার করলেই চলবে। সেই কোড স্ক্যান করে যেকোনো ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপ অথবা বিকাশ, রকেট, নগদসহ বিভিন্ন এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মুহূর্তেই বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রতি এক হাজার টাকায় সর্বোচ্চ সাড়ে ১১ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে, যা প্রচলিত অনেক ডিজিটাল লেনদেনের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য।

ব্যাংকারদের মতে, সর্বজনীন এই কিউআর ব্যবস্থা চালুর ফলে আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত হবে। এতে কর ফাঁকি ও দুর্নীতি কমবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ও বৃদ্ধি পাবে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, বর্তমানে কাগুজে নোট ছাপানো, পরিবহন, নিরাপত্তা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা বাবদ রাষ্ট্রকে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে এ বিপুল ব্যয়ের বড় একটি অংশ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, “শুধু বড় শপিংমল বা সুপারশপ নয়, সবাই এগিয়ে এলে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি বিক্রেতা ও মুদি দোকানেও বাংলা কিউআর পৌঁছে যাবে। এতে নগদ অর্থের ব্যবহার ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং একসময় মানিব্যাগ কিংবা ছেঁড়া-ফাটা কাগুজে নোটের প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই অতীত হয়ে যেতে পারে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল লেনদেনের এই নতুন ব্যবস্থা শুধু নগদ অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে না, বরং একটি স্মার্ট, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও যদি ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার দ্রুত বিস্তৃত করা যায়, তবে দেশের ডিজিটাল আর্থিক খাত আরও শক্তিশালী ও গতিশীল হবে বলে তারা মনে করছেন।