০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

যশোর কারাগারে তেঁতুল গাছ থেকে পাড়ে গিয়ে বন্দি জখম: প্রধান রক্ষীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪১

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে তেঁতুল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে ফাইজুল ইসলাম নামে এক বন্দি গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কারাগারের প্রধান রক্ষী (সুবেদার) হাবিবুর রহমান শীতলের বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব (শো-কজ) করা হয়েছে। গুরুতর আহত ওই বন্দির পা ভেঙে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধান রক্ষী হাবিবুর রহমান শীতল জেল কোড উপেক্ষা করে বন্দি ফাইজুল ইসলামকে একটি উঁচু তেঁতুল গাছে উঠতে বাধ্য করেন। গাছে ওঠার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে ফাইজুল শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারাগারের হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহত বন্দির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কারাগারের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর রহিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বন্দিকে গাছে উঠানোর অভিযোগে প্রধান রক্ষী হাবিবুর রহমান শীতলকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।”
ক্যান্টিন বাণিজ্যের ভয়াবহ অনিয়ম
বন্দি আহতের ঘটনার পাশাপাশি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে পরিচালিত ক্যান্টিন নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সাধারণ বন্দিদের অভিযোগ:
* বাইরের বাজারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে কয়েদিদের কাছে খাবার বিক্রি করা হয়।
* এক টুকরো মুরগির মাংস ৪০-৫০ টাকা এবং সামান্য এক পিস গরুর মাংস ১০০ টাকারও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন বন্দিরা।
* পিসি কার্ডের মাধ্যমে পরিচালিত এই কেনাবেচায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হলেও খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।
কারাগারের অভ্যন্তরে এমন প্রকাশ্য ‘লুটপাট’ ও সেবার মান নিয়ে সাধারণ বন্দি ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
> অনুসন্ধানী নোট: কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিদের ব্যক্তিগত শ্রম ব্যবহার এবং ক্যান্টিনের লাগামহীন দাম নিয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
>

সর্বাধিক পঠিত

আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরবে”—শিবিরকে নিয়ে রাশেদ খানের সমালোচনা

যশোর কারাগারে তেঁতুল গাছ থেকে পাড়ে গিয়ে বন্দি জখম: প্রধান রক্ষীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

আপডেট: ০৯:২৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে তেঁতুল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে ফাইজুল ইসলাম নামে এক বন্দি গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কারাগারের প্রধান রক্ষী (সুবেদার) হাবিবুর রহমান শীতলের বিরুদ্ধে কৈফিয়ত তলব (শো-কজ) করা হয়েছে। গুরুতর আহত ওই বন্দির পা ভেঙে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে প্রধান রক্ষী হাবিবুর রহমান শীতল জেল কোড উপেক্ষা করে বন্দি ফাইজুল ইসলামকে একটি উঁচু তেঁতুল গাছে উঠতে বাধ্য করেন। গাছে ওঠার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে ফাইজুল শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কারাগারের হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহত বন্দির চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কারাগারের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুর রহিম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বন্দিকে গাছে উঠানোর অভিযোগে প্রধান রক্ষী হাবিবুর রহমান শীতলকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কারা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে।”
ক্যান্টিন বাণিজ্যের ভয়াবহ অনিয়ম
বন্দি আহতের ঘটনার পাশাপাশি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে পরিচালিত ক্যান্টিন নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। সাধারণ বন্দিদের অভিযোগ:
* বাইরের বাজারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে কয়েদিদের কাছে খাবার বিক্রি করা হয়।
* এক টুকরো মুরগির মাংস ৪০-৫০ টাকা এবং সামান্য এক পিস গরুর মাংস ১০০ টাকারও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন বন্দিরা।
* পিসি কার্ডের মাধ্যমে পরিচালিত এই কেনাবেচায় প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হলেও খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের।
কারাগারের অভ্যন্তরে এমন প্রকাশ্য ‘লুটপাট’ ও সেবার মান নিয়ে সাধারণ বন্দি ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
> অনুসন্ধানী নোট: কারাগারের অভ্যন্তরে বন্দিদের ব্যক্তিগত শ্রম ব্যবহার এবং ক্যান্টিনের লাগামহীন দাম নিয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
>