নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তার বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক পাঁচটি মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আইনজীবীদের মতে, সবকটি মামলায় জামিন মেলায় এখন তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম দেওভোগ এলাকার নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটির’ থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাকে ধাপে ধাপে আরও চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় (শ্যোন অ্যারেস্ট)। মামলাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
* বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা মামলা।
* আব্দুর রহমান হত্যা মামলা।
* মো. ইয়াছিন হত্যা মামলা।
* পারভেজ হত্যা মামলা।
* পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলা।
ফতুল্লা মডেল থানায় দায়ের করেছিলেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ মহাসড়কের ভুঁইগড় ও দেলপাড়া এলাকায় পুলিশের গুলিতে চারজন নিহতের ঘটনায় আইভীকে হুকুমের আসামি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, সদর মডেল থানায় পুলিশের দায়ের করা মামলাটি ছিল মে মাসে আইভীর বাসভবনে তল্লাশি চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে।
শুনানি চলাকালে আইভীর আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেখান যে, টানা তিনবারের এই সাবেক মেয়রকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
বর্তমানে ডা. আইভী কারাগারে রয়েছেন। উচ্চ আদালতের এই আদেশের খবর নারায়ণগঞ্জে পৌঁছালে তার সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। তারা এখন আইভীর জেলমুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।




















