কিউবার জলসীমায় অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে কিউবান নৌবাহিনী ও ফ্লোরিডা-নিবন্ধিত একটি স্পিডবোটের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কিউবান বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ওই নৌযানে থাকা ৪ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার কিউবার উত্তর উপকূলের কায়ো ফ্যালকোনেস থেকে প্রায় এক মাইল দূরে এই সংঘর্ষ ঘটে। কিউবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে আসা একটি স্পিডবোট তাদের জলসীমায় অনধিকার প্রবেশ করে। কিউবান নিরাপত্তা বাহিনী বাধা দিতে গেলে স্পিডবোট থেকে গুলি চালানো হয়। আত্মরক্ষার্থে কিউবান নৌবাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালালে নৌকায় থাকা চারজন নিহত হন।
এই অভিযানে কিউবার এক কর্মকর্তাসহ আরও ৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কিউবান কর্তৃপক্ষের দাবি, নৌযানটিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবানরা ছিলেন, যারা দেশটিতে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর পরিকল্পনা করছিলেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মার্কিন প্রশাসন দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন:
> “এটি কোনো মার্কিন সরকারি অভিযান ছিল না এবং এতে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। নিহতরা মার্কিন নাগরিক কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। খোলা সমুদ্রে এমন গোলাগুলির ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।”
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন যে হোয়াইট হাউস পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি যাতে আরও গুরুতর রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উটমেয়ার ইতোমধ্যে স্টেটওয়াইড প্রসিকিউশন অফিসকে এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে স্পিডবোটটির উদ্দেশ্য এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ভঙ্গুর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সংকটের মুখে পড়তে পারে।




















