ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কোনো বিলম্ব ছাড়াই নতুন সরকারকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়াই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
আসিফ নজরুল জানান, বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে শপথ পড়ানোর বিষয়ে সরকারের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে:
১. রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি: সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর জন্য মনোনীত করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রধান বিচারপতি এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
২. প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি): যদি প্রথম বিকল্পটি কার্যকর না হয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে আইনি কারণে তিন দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা আসলে অপেক্ষা করতে চাই না। নির্বাচন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চাই।”
সাধারণত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পরপরই জনমনে প্রশ্ন জাগে শপথ কবে হবে। তবে এর উত্তর রয়েছে সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে।
* গেজেট প্রকাশ বাধ্যতামূলক: নির্বাচনের ফলাফল শুধু বেসরকারিভাবে ঘোষিত হলেই হবে না, তা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘সরকারি গেজেটে’ প্রকাশিত হতে হবে।
* তিন দিনের সময়সীমা: সংবিধানের ১৪৮ (২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের পর তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ করতে হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তারা যে ফলাফল ঘোষণা করেন, তা প্রাথমিক বা বেসরকারি। এই ফল নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই করে সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগতে পারে। সেই গেজেট প্রকাশের দিন থেকেই মূলত শপথের তিন দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হয়।




















