০২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীতে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১৩

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সায়দাবাদ এলাকায় ‘হানিফ মাস্টার’ গ্রুপ ও ‘এরশাদ মিয়া’ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকাল ৬টার দিকে পার্শ্ববর্তী বালুচর গ্রাম থেকে এরশাদ গ্রুপের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সায়দাবাদ গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করলে নিজ বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিচয়: নিহত মুস্তাকিম সায়দাবাদ গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

হামলাকারীরা কেবল গুলিবর্ষণই করেনি, সায়দাবাদ গ্রামের অন্তত ৪টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়িগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে আহতরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে পরিচয় গোপন রেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
“আমার ছেলে কোনো রাজনীতির মধ্যে ছিল না। সে শুধু দাঁড়িয়ে ছিল। সাবেক মেম্বার ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা আমার ছেলেকে সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমি এই খুনিদের বিচার চাই।”

সায়দাবাদ গ্রামবাসীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একপাক্ষিক অভিযানের কারণেই এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নিয়মিত শুধু সায়দাবাদ গ্রামেই অভিযান চালায়, ফলে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছিল। এই অরক্ষিত অবস্থার সুযোগ নিয়েই বালুচর গ্রামের সন্ত্রাসীরা এসে এই হত্যাকাণ্ড ও লুণ্ঠন চালিয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, মুস্তাকিমের শরীরের বাম পাশে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

সর্বাধিক পঠিত

ক্ষমতায় গেলে বিনা ঘুষে মেধার ভিত্তিতে চাকরি হবে: অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

নরসিংদীতে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের

আপডেট: ১২:৫১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে মুস্তাকিম মিয়া (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সায়দাবাদ এলাকায় ‘হানিফ মাস্টার’ গ্রুপ ও ‘এরশাদ মিয়া’ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকাল ৬টার দিকে পার্শ্ববর্তী বালুচর গ্রাম থেকে এরশাদ গ্রুপের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সায়দাবাদ গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ব্যাপক গুলিবর্ষণ শুরু করলে নিজ বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা কিশোর মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিচয়: নিহত মুস্তাকিম সায়দাবাদ গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

হামলাকারীরা কেবল গুলিবর্ষণই করেনি, সায়দাবাদ গ্রামের অন্তত ৪টি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এতে বাড়িগুলো সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তবে পুলিশি গ্রেপ্তার এড়াতে আহতরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে পরিচয় গোপন রেখে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

নিহত মুস্তাকিমের মা শাহানা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
“আমার ছেলে কোনো রাজনীতির মধ্যে ছিল না। সে শুধু দাঁড়িয়ে ছিল। সাবেক মেম্বার ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা আমার ছেলেকে সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমি এই খুনিদের বিচার চাই।”

সায়দাবাদ গ্রামবাসীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একপাক্ষিক অভিযানের কারণেই এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ নিয়মিত শুধু সায়দাবাদ গ্রামেই অভিযান চালায়, ফলে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছিল। এই অরক্ষিত অবস্থার সুযোগ নিয়েই বালুচর গ্রামের সন্ত্রাসীরা এসে এই হত্যাকাণ্ড ও লুণ্ঠন চালিয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, মুস্তাকিমের শরীরের বাম পাশে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”