আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের অশান্ত বেলুচিস্তান প্রদেশে তিন দিনব্যাপী এক ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযানে অন্তত ১৯৭ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন। বিদ্রোহীদের ভয়াবহ হামলার জবাবে চালানো এই অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানের ২২ জন সেনাসদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত সপ্তাহান্তে বেলুচিস্তানের অন্তত ১২টি এলাকায় একযোগে বড় ধরনের হামলা চালায় সশস্ত্র বিদ্রোহীরা। কোয়েটা, মাসতুং, নুশকি, দালবন্দিন, গ্বাদর ও পাসনিসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে এই নৃশংসতা চালানো হয়। বিদ্রোহীদের সেই রক্তক্ষয়ী হামলার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি ও ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে।
নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে:
১৯৭ জন (যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আত্মঘাতী হামলাকারীও রয়েছে)।
২২ জন সেনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। বেসামরিক নিহতঃ সন্ত্রাসীদের হামলায় অন্তত ৩৬ জন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।’
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণমাধ্যম শাখা আইএসপিআর দাবি করেছে, এই সুপরিকল্পিত হামলার পেছনে বিদেশ থেকে পরিচালিত শক্তিশালী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক জড়িত। বেলুচিস্তানে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ব্যাহত করা এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অচল করে দেওয়াই ছিল এই ধ্বংসাত্মক তৎপরতার মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) তাদের হামলার মাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবসহ অন্য প্রদেশ থেকে আসা শ্রমিক এবং বিদেশি (প্রধানত চীনা) বিনিয়োগ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে তারা এই গেরিলা হামলা চালিয়ে আসছে।
টানা তিন দিনের এই অভিযানের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পুরো প্রদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রাখা হয়েছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলোতে এখনও তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।




















