০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা মামলার শুটারসহ গ্রেপ্তার ২:

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫১১

যশোরের মণিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের মূল শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার অপরজন শামীম, যিনি হত্যাকাণ্ডের সময় রানা প্রতাপের অবস্থান শনাক্ত করার (রেকি) দায়িত্বে ছিলেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংস বর্ণনা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হৃদয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে দেওয়া হয়। রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশ প্রথমে বাগেরহাট থেকে সাদ্দাম নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়। রাজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরই মূল শুটার হৃদয়ের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ।?
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও তিনি ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি চাঁদাবাজি বন্ধ না করায় শিপন আহমেদ মুন্নার নির্দেশে তাঁকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে হৃদয় প্রথমে শামীম ও সেলিমকে কপালিয়া বাজারে পাঠান। সবুজ সংকেত পাওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং কথা বলার একপর্যায়ে রানা প্রতাপকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না এবং কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সূর্যকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার।?

সর্বাধিক পঠিত

অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: ভাষা শহীদদের প্রতি ‘জনতার কথা-২৪’-এর বিনম্র শ্রদ্ধা”

মণিরামপুরে রানা প্রতাপ হত্যা মামলার শুটারসহ গ্রেপ্তার ২:

আপডেট: ০৪:৫৯:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যশোরের মণিরামপুরে আলোচিত বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির নেতা রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের মূল শুটার মাহামুদ হাসান হৃদয়সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার অপরজন শামীম, যিনি হত্যাকাণ্ডের সময় রানা প্রতাপের অবস্থান শনাক্ত করার (রেকি) দায়িত্বে ছিলেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ৩টায় যশোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে। তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বিদেশি ৭.৬৫ পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংস বর্ণনা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মণিরামপুরের কপালিয়া বাজারে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। প্রথমে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় হৃদয়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা কেটে দেওয়া হয়। রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশ প্রথমে বাগেরহাট থেকে সাদ্দাম নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লাকে আটক করা হয়। রাজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পরই মূল শুটার হৃদয়ের অবস্থান নিশ্চিত হয় পুলিশ।?
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও তিনি ‘পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি’র নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে এলাকার বিভিন্ন মৎস্য ঘের ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করার পরও তিনি চাঁদাবাজি বন্ধ না করায় শিপন আহমেদ মুন্নার নির্দেশে তাঁকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হয়।

ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে হৃদয় প্রথমে শামীম ও সেলিমকে কপালিয়া বাজারে পাঠান। সবুজ সংকেত পাওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে চড়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং কথা বলার একপর্যায়ে রানা প্রতাপকে গুলি ও জবাই করে হত্যা করেন।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না এবং কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সূর্যকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার।?