০৬:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ভারত থেকে পাইপলাইনে পৌঁছাল ৫ হাজার টন ডিজেল

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ৫১৩

কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে ছেড়ে আসা এই ডিজেল বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় পার্বতীপুরের রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছায়।

পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে নুমালিগড় থেকে সরাসরি দিনাজপুরে ডিজেল পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র ৬০ ঘণ্টা। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অন্য কোনো কারণে রেলপথ ও সড়কপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি এড়াতে এই পাইপলাইন প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি এক চুক্তির মাধ্যমে এই পাইপলাইন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশ মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করবে।
* চলতি বছরের অগ্রগতি: ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিপিসি ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ পেয়েছে।
* ব্যয়: এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যা বিপিসির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।
* ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আসন্ন সেচ মৌসুম ও চাহিদা বিবেচনায় আগামী চার মাসের মধ্যে একই পাইপলাইনে আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি।

তথ্যমতে, ২০১৩ সালে এই পাইপলাইন চালুর পর থেকে প্রতি বছরই জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ টন এবং ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ টন ডিজেল এলেও ২০২৫ সালে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টনে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে এবং দ্রুততম সময়ে জ্বালানি তেল আমদানির ফলে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সর্বাধিক পঠিত

রাষ্ট্রপতির ভাষণকালে বিরোধী দলের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও সংসদ থেকে ওয়াক আউট

ভারত থেকে পাইপলাইনে পৌঁছাল ৫ হাজার টন ডিজেল

আপডেট: ১০:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পৌঁছেছে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি কেন্দ্র থেকে ছেড়ে আসা এই ডিজেল বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় পার্বতীপুরের রেলহেড ডিপোতে এসে পৌঁছায়।

পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে নুমালিগড় থেকে সরাসরি দিনাজপুরে ডিজেল পৌঁছাতে সময় লেগেছে মাত্র ৬০ ঘণ্টা। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অন্য কোনো কারণে রেলপথ ও সড়কপথে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি এড়াতে এই পাইপলাইন প্রকল্পটি উত্তরাঞ্চলের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১৭ সালের ২২ অক্টোবর দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছর মেয়াদি এক চুক্তির মাধ্যমে এই পাইপলাইন প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাংলাদেশ মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করবে।
* চলতি বছরের অগ্রগতি: ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বিপিসি ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ পেয়েছে।
* ব্যয়: এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যা বিপিসির নিজস্ব তহবিল ও ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে।
* ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আসন্ন সেচ মৌসুম ও চাহিদা বিবেচনায় আগামী চার মাসের মধ্যে একই পাইপলাইনে আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি।

তথ্যমতে, ২০১৩ সালে এই পাইপলাইন চালুর পর থেকে প্রতি বছরই জ্বালানি আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ টন এবং ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ টন ডিজেল এলেও ২০২৫ সালে তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টনে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে এবং দ্রুততম সময়ে জ্বালানি তেল আমদানির ফলে উত্তরবঙ্গের কৃষি ও শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।